Published 2025-11-27
Keywords
- মানবতাবাদ,
- দেহতত্ত্ব,
- ছুঁৎ- অচ্ছুৎ,
- কুসংস্কার,
- জাতিভেদহীন
- সমাজসংস্কার ...More
How to Cite

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.
Abstract
লালন ফকির ইংরেজি ১৮৯০ সাল বাংলা ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১লা কার্ত্তিক অধুনা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ছেউড়িয়ায় তাঁর আখড়া বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্মস্থান, সন ও তারিখ অজ্ঞাত। লালন তাঁর গ্রামীণ জীবনের ভিতরে দেখলেন জাত-পাতের বর্বরতা, শোষক কর্তৃক প্রজা উৎপীড়ন, নারীর প্রতি অশ্রদ্ধা, ছুঁৎ-অছ্যুতের বিরোধ, সতীদাহের মূল ভাবনা।ফকির লালন সাঁইয়ের আজীবন স্বপ্ন ধর্ম-গোত্র-বর্ণ-জাতপাত হীন এক মানবিক সমাজের। যে সমাজে মানুষই সব। মানুষকে ঘিরেই প্রথা। এসবই ধর্মীয় গোঁড়ামির বাঊল ধর্মে পরমার্থ এসে দেহের সীমায় মিশেছে বলেই বাঊলদের সাধন-ভজনের মুখ্য বিষয় হয়ে ঊঠেছে মানুষ। ফকির লালন সাঁই গুরুবাদী ধর্মে দেহ সাধনার মাধ্যমে সেই পরম মনুষ্যত্ব বোধকেই জাগ্রত করতে চেয়েছেন। লালনের অসংখ্য গানে মনের মানুষের কথা বারংবার এসেছে। “মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি … মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” অথবা “মিলন হবে কত দিনে … আমার মনের মানুষের সনে”। সমাজের সকল নিপীড়িত মানুষের প্রতিবাদহীনতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি- কুসংস্কার, লোভ, সামাজিক বিভেদ, আত্মকেন্দ্রিকতাকে তাঁর গানের মধ্যে তুলে ধরে করেছেন প্রশ্নবিদ্ধ। “এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে … যেদিন হিন্দু- মুসলিম-বৌদ্ধ–খ্রিষ্টান জাতি-গোত্র নাহি রবে”। বিধান বলে সমাজনীতিতে ক্রিয়াশীল ছিল। এই ধর্মীয় গলদের বিরুদ্ধে তিনি বেশি সোচ্চার ছিলেন। জমিদারদের প্রজা উৎপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর দশহাজার শিষ্যকে নিয়ে রুখে দাঁড়ান। মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, সাধুসঙ্গের মাধ্যমে শুদ্ধ হওয়া তাঁর সংস্কার মনুষ্যত্ব মানবতাবাদে আলোকিত হয়।
DOI - https://doi.org/10.65525/SVUP.9788197403699.2025.111-118