Published 2025-11-27
Keywords
- উনিশ শতক,
- নবজাগরণ,
- কাব্যধারা,
- মানবতাবাদ,
- যুক্তিবাদ
- অতীত ঐতিহ্য ...More
How to Cite

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.
Abstract
বাংলা সাহিত্য তথা বাংলা জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে উনবিংশ শতক এক গুরুত্বপূর্ণ কালপর্ব। উনবিংশ শতক ছিল বঙ্গ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ বিকাশের ক্ষেত্রে এক যুগসন্ধিক্ষণ। আর ঠিক এই সময়েই বাংলায় জন্ম নিয়েছিলেন এমন কিছু মনীষী বা মহামানব যাঁরা মননে, চর্চায়, ভাবনায়, সৃজনশীলতায় নবজাগরণের ভাগীরথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সময় এবং সমাজের প্রয়োজনেই এই সকল মনীষীর আবির্ভাব। উনিশ শতকের নবজাগরণের পালাবদলে মদনমোহন তর্কালঙ্কার এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তি। বাংলার নবজাগরণের প্রেক্ষাপটে মদনমোহন তর্কালঙ্কার সাহিত্য সৃষ্টিতে, শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ করে নারী শিক্ষার বিস্তারে, সমাজ সংস্কারে ও প্রশাসনিক দায়ভারে সকল ক্ষেত্রেই বিশেষ ছাপ রেখে গেছেন। মদনমোহনের জন্ম ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যু হয় ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে। সুতরাং মদনমোহনের জীবনকাল মাত্র ৪১ বছর। মদনমোহনের এই সংক্ষিপ্ত জীবনে মাত্র দুটি কাব্য রচনা করেছেন। কাব্য দুটি তাঁর কৈশোর বয়সের রচনা। প্রথম কাব্য ‘রসতরঙ্গিনী’(১৮৩৪) রচনা করেন মাত্র ১৭ বছর বয়সে এবং দ্বিতীয় কাব্য ‘বাসবদত্তা’ রচনা করেন তার ঠিক দুই বছর পর অর্থাৎ ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে। মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্রের কাব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে মদনমোহন তাঁর সাহিত্য রচনা শুরু করেন ঠিকই তবে নবজাগরণের আলো তাঁর সাহিত্যে বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে। নবজাগরণের যুগের সাহিত্যের প্রধান প্রধান লক্ষণ গুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাঁর রচিত কাব্য দুটিতে। মদনমোহনের কাব্যে ফুটে উঠেছে মানবতাবাদ, যুক্তিবাদ, অতীত ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার, নারী মুক্তির বিশেষ বিশেষ দিক। কাব্য দুটির শিক্ষাগত মূল্যও যথেষ্ট। সুতরাং উনিশ শতকের নবজাগরণের যুগে মদনমোহন তাঁর কাব্যের দ্বারা আধুনিকতা, মানবতা, যুক্তিবাদীতার সঙ্গে ভারতীয় ঐতিহ্য সংস্করণের যে প্রয়াস নিয়েছিলেন তা আধুনিক কালেও সেই কাব্যধারার দ্যুতি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে জাজ্বল্যমান।
DOI - https://doi.org/10.65525/SVUP.9788197403699.2025.102-110