Published 2025-11-27
Keywords
- বেগম রোকেয়া,
- শিক্ষা,
- নারীক্ষমতায়ন,
- উন্নয়ন,
- মুসলিম সমাজের জাগরণ
How to Cite

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.
Abstract
পৃথিবীর সকল সমাজে অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লিঙ্গ বৈষম্য ,লিঙ্গ বৈষম্য একটি সার্বজনীন বিষয়। পৃথিবীর কোন সমাজেই নারীরা সমসুযোগ, সম অধিকার ও সমমর্যাদা স্বীকৃত নয়। আর এই লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে নারী জাতির সমবেত প্রতিবাদ স্বরূপ নারী বাদের উদ্ভব। অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে (১৭৯২) একটি প্রতিষ্ঠিত মতাদর্শ হিসেবে নারীবাদের যাত্রা শুরু। সুস্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে ১৭৯২ সালে প্রকাশিত মেরি উইনস্টোন ক্রাফটের’ A vindication of the rights of women’বইটি নারীবাদকে একটি বৌদ্ধিক প্রতিষ্ঠা দেয়। নারীবাদ হলো নারী মুক্তি এবং নারীদের সমান অধিকার অর্জনের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলার তথ্য এবং তার প্রয়োগগত দৃষ্টিভঙ্গি। নারীবাদের মূলে রয়েছে নারীদের সমান অধিকারের লড়াই। নারী বাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি লিঙ্গ বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা যেখানে নারী তাই নিজস্ব মর্যাদা আসনে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলার সমাজ সংস্কার সংক্রান্ত কর্মসূচি গুলির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নারী মুক্তি আন্দোলন।। উনিশ শতকের বাংলার এই সমাজ সংস্কার আন্দোলন তথা নারী মুক্তি আন্দোলনে পথপ্রদর্শক ছিলেন প্রাশ্চাত্য শিক্ষার আলোয় আলোকিত কিছু হিন্দু ও মুসলিম প্রগতিশীল মনীষী ও মহীয়সী নারী। বাংলা মুসলিম সমাজের নারী মুক্তি ও নারী ক্ষমতায়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বেগম রোকেয়া ১৮৮০ থেকে ১৯৩২ নারী মুক্তি ও নারী জাগনের পথিকৃৎরূপে বাংলাদেশের সর্বজন স্বীকৃত।পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি হাতে কলম তুলে নিয়েছিলেন। নারী মুক্তি ও নারী জাগরণের আদর্শ চিত্র ফুটে উঠেছে তার লেখা সুলতানা ড্রিম (১৯০৫) এবং পদ্মরাগ উপন্যাসে। তিনি যুক্তিসহকারে ও বাস্তব চিত্রে উপস্থাপন করেই বলেন, আমাদের সমাজের মধ্যেই রয়েছে একজন আদর্শ নারী বা একজন পূর্ণাঙ্গ মানবিক গুণসম্বলিত নারী হয়ে ওঠার পথে বহুবিধ অন্তরায়। তিনি তার জীবনব্যাপী কর্মের মাধ্যমে নারী মুক্তি পথে এই সকল বহুমুখী প্রাকার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। বেগম রোকেয়ার নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের বিশ্বাসী ছিলেন তিনি তার লেখার মধ্যে দিয়ে নারী জাতিকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার কথা বলেন। রোকেয়ার মতে পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য মেয়েদের স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন প্রয়োজন। বেগম রোকেয়া নারীর অর্থনৈতিক অধিকারের কথা দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করেন। তিনি কর্ম ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে এমনকি কার্যক্ষেত্র নারীরা চরমভাবে অবহেলিত। তিনি তার বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং ক্ষমতায়নের জন্য নারী শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নারী মুক্তি একমাত্র পথ হল শিক্ষার প্রসার। বাংলা মুসলিম সমাজের নারী মুক্তি আন্দোলনে অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন বেগম রোকেয়া। তার পরবর্তী প্রজন্মের পর প্রজন্মের নারী সমাজ সেই কর্মের সুফল পেতে যে শুরু করেছে তা আজ বেশ দৃশ্যমান।
DOI - https://doi.org/10.65525/SVUP.9788197403699.2025.89-96